শপথ নিল বেসিসের নতুন কার্যনির্বাহী পরিষদ

২০ মে, ২০২৪ ২০:৩১  

স্মার্ট বাংলাদেশ বাস্তবায়নে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে দেশীয় সফটওয়্যারের স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন এবং সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠার শপথ নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিষিক্ত হলো বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেস (বেসিস)-এর নবনির্বাচিত কার্যনির্বাহী পরিষদ (২০২৪-২০২৬)।

সোমবার রাজধানীর রেডিসন ব্লু এর ওয়াটার গার্ডেন হোটেল, গ্রান্ড বলরুমে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে নবনির্বাচিত কার্যনির্বাহী পরিষদকে শপথবাক্য পাঠ করান বেসিসের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি এ তৌহিদ।

অভিষেক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহ্‌মেদ পলক, বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রি আহসানুল ইসলাম (টিটু) এবং সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এফবিসিসিআই-এর সভাপতি মোঃ মাহবুবুল আলম।

এছাড়া অনুষ্ঠানে বেসিসের সাবেক সভাপতি সরওয়ার আলম, রফিকুল ইসলাম রাউলি, এ কে এম ফাহিম মাশরুরসহ বিদায়ী কার্যনির্বাহী পরিষদের সদস্যবৃন্দ, বেসিসের সাবেক কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্যবৃন্দ, বেসিসের সদস্য কোম্পানির প্রতিনিধিবৃন্দ, বাংলাদেশে নিযুক্ত বিভিন্ন দূতাবাসের কর্মকর্তাবৃন্দ ও সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে শপথ গ্রহণ করেন বেসিসের সভাপতি রাসেল টি আহমেদ, জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি এম রাশিদুল হাসান, সহ-সভাপতি (প্রশাসন) সৈয়দ মোহাম্মাদ কামাল, সহ-সভাপতি (অর্থ) ইকবাল আহমেদ ফখরুল হাসান, বেসিসের নবনির্বাচিত পরিচালক মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান সোহেল, দিদারুল আলম, এম আসিফ রহমান, ড. মুহম্মদ রিসালাত সিদ্দীক, মীর শাহরুখ ইসলাম, বিপ্লব ঘোষ রাহুল এবং সৈয়দ আব্দুল্লাহ জায়েদ।

রাসেল টি আহমেদ বেসিসের সভাপতি হিসেবে পুনঃনির্বাচিত হওয়ায় অনুষ্ঠানে বিদায়ী জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি সামিরা জুবেরী হিমিকা/সহ-সভাপতি (প্রশাসন) আবু দাউদ খান তার হাতে বেসিসের পতাকা তুলে দেন। পরবর্তীতে বিদায়ী কার্যনির্বাহী পরিষদ, বেসিস নির্বাচন বোর্ড ও আপীল বোর্ডকে তাদের অবদানের জন্য শুভেচ্ছা ক্রেস্ট তুলে দেন অতিথিরা। আর অতিথিদের হাতে গাছের চারা এবং নির্বাচন বোর্ডের সদস্যদের হাতে তুলে দেয়া হয় শুভেচ্ছা উপহার।

অনুষ্ঠানে ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠন বেসিসি সভাপতি সুব্রত সরকার, বাক্কো সভাপতি ওয়াহিদ শরীফ, আইএসপিএবি সভাপতি মো. ইমদাদুল হক, ইক্যাব সভাপতি শমী কায়সার, উই প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি নাসিমা আক্তার নিশা প্রমুখ অনুষ্ঠানে নতুন কমিটিকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন বেসিসের বিদায়ী জ্যৈষ্ঠ সহ-সভাপতি সামিরা জুবেরী হিমিকা। বক্তব্যে কর অব্যাহতি এই কমিটির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ বলে মনে মন্তব্য করেন তিনি।

অপরদিকে বিজিত নেয়া নতুন কমিটির শপথ নেয়া ১১ সদস্যেরকে ‘প্রতিভাবান তারুণ্য ও অভিজ্ঞতার সমন্বিত মন্তব্য করে ভোটার ও অংশগ্রহণকারীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন ফের নির্বাচিত বেসিস সভাপতি রাসেল টি আহমেদ। এই বিজয়কে তিনি বেসিস এর বিজয় বলে মন্তব্য করেন। রাসেল বলেন, আজকের কমিটির ১১ জনের মধ্যে যারাই নির্বাচিত হয়ে এসেছেন; তাদের এই জয় বেসিস এর সকল সদস্যের বিজয়। এই জয় কোনো টিমের না, এই জয় বেসিস এর। কারণ, প্রায় ১৫০০ ভোটারের মধ্যে ভোট কাস্ট হয়েছে ৮২ শতাংশ। নির্বাচনকে সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক করার কৃতিত্ব ৩৩ জন প্রার্থীর।

স্মার্ট বাংলাদেশ হতে হলে দেশের প্রতিটি খাতকে স্মার্ট হতে হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সেই স্মার্টনেস তখনই আসবে যখন সেই সেক্টরগুলোতে আইসিটির ব্যবহার হবে। তাই আমাদের ভাষায় আমরা বলতে চাই, স্মার্ট বাংলাদেশই হবে আইসিটিই হবে নিউক্লিয়াস।

কর অব্যাহতি বহাল রাখার যুক্তি টেনে তিনি আরো বলেন, রাজস্ব বোর্ডের হিসেবে দেশের সফটওয়্যার খাতের মুনাফা ৫ হাজার কোটি টাকা। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে আমাদের ইন্ডাস্ট্রির টার্নওভার হচ্ছে ২ হাজার কোটি টাকা। অংকের এই অসামঞ্জস্যতা ঠিক করলে আইএমএফও এই খাতে ট্যাক্স বসাতে আগ্রহ হারাবে। করারোপের কারণে সরকার ও স্থানীয় বাজারের খরচ বাড়বে। অন্যদিকে আমদানি নির্ভরতার ভয় বাড়বে। একইভাবে ৫ বিলিয়ন রফতানি আয় লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে কর অব্যাহতির সুযোগ বিদ্যমান থাকা প্রতিযোগী ভিয়েতনাম এবং বিভিন্ন প্রণোদনা উপভোগ করা প্রতিবেশী ভারতের থেকে দেশ পিছিয়ে পড়বে।

প্রসঙ্গত, গত ৮ মে ২০২৪ তারিখে বেসিসের ২০২৪-২০২৬ মেয়াদের কার্যনির্বাহী পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।